প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 30, 2026 ইং
চীনে যে কারণে প্রবীণদের নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে

চীনে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর এখন শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের ভরণপোষণের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।দেশটিতে দ্রুত বাড়তে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আকার এবং ক্রমাগত কমতে থাকা জন্মহারের প্রভাব কতটা গভীর, এই সাম্প্রতিক চিত্রেই তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘ইচাই’ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রবীণদের নির্ভরতার হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশে। বিপরীতে শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২২ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে এই অনুপাত টানা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে প্রবীণ নির্ভরতার অনুপাত ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ, ২০২১ সালেই তা বেড়ে ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখের বেশি। অন্যদিকে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশু রয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ।
দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ার কারণে ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মত চীনের মোট জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। মূলত ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর থাকা ‘এক সন্তান নীতি’ এবং দ্রুত নগরায়ণের প্রভাবেই কয়েক দশক ধরে চীনে জন্মহার ক্রমাগত নিম্নমুখী রয়েছে।
উৎকণ্ঠাজনক এই জনমিতিক সংকট সামাল দিতে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে নাগরিকদের নানা প্রণোদনা দিচ্ছে চীন সরকার। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও সরাসরি ভর্তুকি, সন্তান লালন-পালনে বিশেষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং প্রসবকালীন সামগ্রিক চিকিৎসাব্যয় হ্রাস করা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV